কবি রাখহরি পালের কবিতা সংকলনের পাঠ প্রতিক্রিয়া
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
" কবিতার মুখোমুখি দেবাশীষ"
হরবোলা শব্দরা ফুল ফোটায় নিরুপম সৌন্দর্যে
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
উত্তরপাড়া, হুগলি
Spanish কবি Gabriela Mistral লিখছেন -----" The poet is an untier of knots,
And love without words is a knot,
And it drowns"।কবি শমীক জয় সেনগুপ্ত প্রত্যহ আলপনা আঁকা আঙিনায় জ্যোৎস্না পাতা দুরন্ত শরীর বসন্তের অমর চেতনা ফোটাতে ফোটাতে ভালোবাসার আলোয় শুচিস্নান সারেন তাই -----জানেন ও মানেন, ভালোবাসার শব্দ শঙ্খ বাজতে থাকলে শরীর শুয়ে থাকে পেখম মেলে। ভালোবাসা কবি শমীকের চোখে শরীরের Catastrophism বদলে দেয় ---
" মেঘ বলে নদী হও তুমি
দেবো আমি জল যত লাগে
আমিও রিক্ত হতে পারি
তোমাকে ছোঁয়ার অনুরাগে।"
অথবা
" কলঙ্ক আবর্তে শুধু অন্ধকার,
মেঘ আর অঙ্গার থাকে নত আঁখি !
" কৃষ্ণ- কৃষ্ণ" নামে যেই ঠোঁটকে ছুঁয়েছে
সে ঠোঁটকে আমিও যে রাধা বলে ডাকি।"
একটা বোধ উঠে আসে অদ্ভুত চোখ নিয়ে। নিজের ক্ষুদ্রতার,তুচ্ছতার, অনন্ত অজানা রহস্য ও বিস্ময়ের মাঝখানে কবি অক্ষর সাধনায় ব্রতী হন যেন শ্লাঘ্য বিসর্জন দিয়ে। তার কবিতার suggestiveness বুকের অতলে কিংবা চোখের পাতায় চুম্বনের ভালোবাসার ঝড় তোলে।কবি শমীকের কবিতার mental health তাই সম্পর্কের ecstasy!
অভিজয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত প্রিয় কবি শমীক জয় সেনগুপ্তের ' ২০ ফুটে ফুল ' পাঠক মনে এক অদ্ভুত আগ্ৰহের সৃষ্টি করে।পাঠক কবির চিত্র পরম্পরায়, বক্তব্য পরম্পরায় সাযুজ্য খুঁজে পান। বুকে তাদের কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নির্মোহ মহিমা ----
" সব আশা
রাত্রি এলেই আবার কেড়ে নিয়ো,
অন্ধকারে দু-চোখ ভরে দিয়ো
আর কিছু নয়, আলোর ভালবাসা।"
শমীকের poetic chemistry তার গভীরের অনুরণন, আলোর শরীর পরিপূরক সঞ্জীবনী।
"চমকানো বড় কথা নয়
লাল হয়ে উঠেছে শরীর
কে বলেছে দহন ওটাকে
আমি জানি প্রেম সুস্থির
প্রেম নাকি, এও জেনে গেছে?
আর তবে কি রইল বাকি
বৃষ্টি নামতে পারে জেনে
ক্ষতদের চোখ বলে ডাকি।"
পাঠক এক অদ্ভুত বোবা বিস্ময়ে চমকিত হন-- স্বাদ পান বীণার পুণ্য তারে গুণীর অঙ্গুলির। ভাস্কর চক্রবর্তীর সুর কাঁপে আচমকা স্বননে ---
"সব কিছু নষ্ট, তবু
এখনো হৃদয় পারে
হৃদয়ের কাছাকাছি যেতে।"
শমীকের তৃপ্তিহীন বিরহ ঈশ্বরেরই একজাত, কখনও বা ধ্বনিত অমৃতের আকাশ। যুক্তাক্ষরহীন চোখের জলে লেখেন শমীক ----
"নিজেকে আদর করতে করতে আমিও
চোখ তুলে তাকায়েছি ভীড়
অস্থির হয়ে উঠি তুই -তুই ছোঁয়ার আবেশে।
তবুও এ ভীড়
আমাকে আমির থেকে প্রতিহত করে।"
হৃদয়ের আকাঙ্খার অরণ্যে লন্ঠন জ্বলে, হেনরিয়েটার চোখে সুনীল কল্লোল ---
"তেরে পুকার অব হরবকত্ মেরী কানোমে ----
তেরে এহসাস অব মেরী সিনেমে মেরী ধড়কনমে
দূর রহেনে সে ভী অব দূর কা ফাঁসলা হ্যায় কাঁহা?"
পাঠক কবির mental engineering এর জালে আটকে পড়েন ভালোবাসার নাভিমূল যজ্ঞবেদীতে।' কবিতার বুটিক 'আত্মহারা ভালোবাসার ছবি আঁকলে পাঠক তার চিরন্তনী নারীর অসীম অমেয় উন্মাদনায় বিশ্রুত স্থপতি হয়ে যেন স্বপ্নিল আলিঙ্গনে মোহাবিষ্ট হয়ে পড়েন।এও এক কবিতার জারণ। পাঠককে অক্ষর আবিষ্ট করে নিজের সাথে নিয়ে পথ চলা।এ এক কঠিন সাধনা কবির।
পাঠকের হৃদয়ের কাছে কবির awakening ---
" জন্ম একা শরীর কি দেয়
মন যে ক্ষেত্রবৎ
আমার জন্য আরেক আমির
তাই এত দ্বৈরথ।"
একটা জটিল সমীকরণ সহজ সৌন্দর্যে পাঠকের পাশে এসে বসে। চোখে তার শতকের ব্যাকুল ভোর।
" দীপ জ্বেলে বসে থাকে রাত
বর্ণমালার দীপালিকা
বোঝেনি নদীর জশবাত
অক্ষরে ভেসে গেল স্রোত
মোনোটোনি হৃদি রিংটোনে
আলো চাই ছোঁয়ায় মনেতে
নদী বয় তারই সন্ধানে।"
কবিতার চড়ুই নীড় বেঁধে কবি সেই ঘরে রাখতে চান পাঠকের প্রেমের স্বাক্ষর।দ্রৌপদীর অন্তহীন শাড়ির মতো অশেষ প্রেমের বড়ো মায়াবী সন্ধান কবির---
" যতবার ঠোঁট এসে নেমেছে ঠোঁটেতে
একচোট গরম হাওয়ারা
ছ্যাকা দেয় প্রশ্নের মত ----
সানাই না বাজলে কী বৈধতা পাবে না এ চুমু।"
কবি শমীকের কবিতার উপকরণ আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা আমাদেরই সুখ দুঃখ ,হাসি কান্না।কবি যা দেখেন, যা কিছু জানেন তাই তার কবিতার বিষয়। বিনির্মাণে শুধু মেশান শুদ্ধ আবেগ আর--- "an eye
A widening deepening greenness....
Coming about its own business....."
কবি জানেন এ সময় বড়ো অস্থির। বিশ্বাস শ্যাওলার মতো পিচ্ছিল।তাই বাস্তব তার কাছে গানের দিন নয় ---
" মিথ্যে মিথ্যে ভেজা চিঁড়ে
মন গলে না স্তবে
মন গলতো যখন আমার
উনিশ, পঁচিশ তুমি
সচল ছিল অচলতায়
সজীব ভন্ডামি। "
অথবা
" রিক্ত হব, সিক্ত হব প্রেমিক হব জানি
চার ডিজিটের পাসওয়ার্ডেই বাড়ছে যে হয়রানি
তখনো আমি প্রেমিক থাকি রিক্ত এবং নিঃস্ব
বিস্মৃতিতল মিথ্যে খোঁজে পাসওয়ার্ড অস্পৃশ্য।"
দুঃখ- জাগানিয়া কাঠের পুরনো সিন্দুক থেকে ন্যাপথলিনের গন্ধ মাখা রূপকথারা সামনে হাজির হলে রোদ্দুরের সোনার চিরুনি ঝলসে ওঠে , তৃণে -পত্রে, জলে -স্থলে, আকাশের নীলে, পাখির পালকের রঙে উন্মনা মনে জেগে ওঠে আলনায় ঝুলতে থাকা অগোছালো কাপড়ের মতো অ- রূপকথারা ----
"একান্তে জিঞ্জাসা করেছি সেই নদীটাকে,
তার বুকে একদিন ছুঁড়েছি পাথর আর
পারাপার করে গেছে ঘা-মারা নজর.....
তবুও সেখানে, কোন রূপকের কথা
রূপকথা হয়ে বুকে ধরা তো দিলো না।"
ছেঁড়া দুঃখ রিফু করে দুপুর সন্ধ্যায় জেগে ওঠা মীড়ে আনাজ কোটা, হলুদ বাটার সংসারে স্বপ্ন হিজিবিজি আঁকা চলতেই থাকে নেপথ্যচারিণী হয়ে ----
" তোর বুকেতে আমি
আর নাভির খাদে তুই
আঁচড় কাটি এক একটা বার রূপকথাদের খোঁজে।"
Fantasyর সুরে জানালার পর্দা কাঁপে। বৃষ্টি পড়তে শুরু করে।ভেজেন কবি।ভেজেন পাঠক। এবং এটাই হয়ে দাঁড়ায় তার কবিতার brain mapping । তার অভিজ্ঞতা এলেবেলে কত কিছু নিয়ে পাঠকের হাত ধরে, নিয়ে যায় ধ্বনি - প্রতিধ্বনিময় কলম অভিসারে। Aesthetics কবির সৃষ্টির উদ্দেশ্য। যৌনতার ব্যবহারে কবি উন্মাদ পদধ্বনি আঁকেন না। শরীরের মানচিত্রে উড়িয়ে দেন ঝাঁকে ঝাঁকে বেলুন নতজানু প্রেমিক হয়ে। তার ভাষা তখন আলাদা লাগে পাঠকের। আধুনিক কবিতার বর্তমান ভাঙ্গাচোরার পথে কবি শমীকের স্থায়ী ঠিকানার সন্ধানে আসুক আরো গভীরতা, কবিতার আরো বৈচিত্র্যময়তা ,বস্তিতে নামুক সূর্যাস্তের রঙলাগা ফ্যানভাত, মৃত্যুর পা ধুয়ে দিক নদীর শাশ্বত কান্না,আরো ভিন্ন অবয়ব আসুক গোলাপের বিপর্যস্ত বাগানে,শব্দের অশ্ব - দ্রুতিতে আরোগ্যশালায় জীবনের সিম্ফনি বাজুক। নীরবতার বুকের ভেতরের যে মুক্তো তা তুলে আনতে থাকুক কবির সাঁঝ সকাল।বুদ্ধের সেই বাণী সত্য হোক ----
"When you go into nothingness, you become everything"।কবি শমীক তার joy কে ' জয়'এ বদলে দিতে ম্যানিফেস্টো আঁকেন তাই বহুবর্ণ শব্দের সত্যতায় ---
" তবুও যদি হাত ছুঁয়ে যায় অক্ষর আর পাতা
ভিজে যাওয়া মনের কোণে পাও খুঁজে এই খাতা
দেখবে তাতে কবি জন্মে
নদীর অভিশাপ
বয়েই যাচ্ছে, বয়ে তো যাবেই
জয়ের এপিটাফ।"
*************
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন