পোস্টগুলি

সবুজের শৌভিক | বুদ্ধদেব গুহর স্মরণে

ছবি
   ক্যাফে গদ্য কাব্যে দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়  কোজাগর চলেছে মাধুকরীর অনুভবে। হেমন্ত বেলায় একটু উষ্ণতার জন্য কোয়েলের কাছে তার সবিনয় নিবেদন। ছেঁড়া ক্যানভাসে হলুদ বসন্ত লবঙগীর জঙ্গলে। জোনাকির ফসফরাসে লেগে থাকে হাজার দুয়ারী অভিলাষ সুখের কাছে। বনজ্যোৎস্নার সবুজ অন্ধকারে জলতরঙ্গ বাজে শরীর মাদলে। তোমার জন্য ভেসে চলেছে তরল কান্নারা সবুজ থেকে সবুজে। জঙ্গল মহলে আজ মনখারাপের বিলাওল। অরণ্যের মর্মরে বুক ফাটা হাহুতাশ। গাছেরা নত মস্তকে যোগিয়া পরিরম্ভে। প্রজাপতির ডানায় উড়ান স্তব্ধ বিস্ময়, মৃত্যুর পারুষ্যে পাথর চাপা। মনখারাপের নকশিকাঁথা পাতায় পাতায়।মোম জ্যোৎস্নার নিরাতপ প্রদিগ্ধ ভালোবাসা আজ মৃত ভেজা।চলে যাবার সুরে সিনীবালী নেমে এসেছে সসেমিরা হৃদয়ে।বিদায় বন্ধু ,বিদায় !

বিমোক্ষ/ (উৎসব ১৪২৮)/দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

ছবি
  হলুদ ডালিয়া হেলে পড়ে হাসিমুখে। চন্দ্র মল্লিকার নিজেদের সাথে কানাকানি।জিনিয়ারা আপন আনন্দে খিলখিল।লাল হলুদ গাঁদা পালক পিতার দিকে আবেগভরা চোখে।গোলাপের বুকেও আজ মনকেমনের শিহরণ। বারান্দা বাগানের প্রতিটা  সবুজ প্রাণ ভালোবেসে বিহান সহায়। গতানুগতিকতার মোড়কে জীবন এখন বিহানের।ছেলেবেলায় বাবার হাত ধরে গড়ে ওঠা অভ্যাসে ভোরে প্রকৃতি সন্নিকর্ষে ওর দিন শুরু।বাবা বলতেন ' ভৈরো ' সময়। প্রাণের প্রথম প্রৈতি যেন এই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাবার গলায় তখন গুনগুন করে না - জানা আলাহিয়া বা বিলাবল।সৌমনস্যভরা মন বাবার হাতের স্পর্শে তখন। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বিহানের অবসর জীবনে কষ্টজড়িমায় আবাহন যেন দিনের বাকি সময়ে।রিষ্টিনাশা সুখের দীধিতি উধাও কোন অজানায় !সকাল নাকি সবসময় বাকি দিনের ইঙ্গিত দেয়! মুচকি হেসে ফেলল বিহান।ভুল ভুল, বড়ো ভুল ।ওর জীবন তাহলে স্যন্দিত দুঃখের আলাপন হতো না। ব্যাঙ্কের চাকরির সিদ্ধান্তটা ওর নিজের। অঙ্কের শিক্ষক বাবা চেয়েছিলেন ছেলে উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যাক। গবেষণা করে নিজের সৌরভ ছড়াক। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ওর প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় হওয়া বাবা মার আগ্রহের সলতেতে আগুন দেবে স্বাভাবিক। ...

তবু ও থেকে যায়

ছবি
  দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

পশুরা ছড়াচ্ছে দিকে দিকে

ছবি
 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় নারী মাংস খাবার সুখ যোনিলুঠের লালসা অথচ তোমারই উঠোনে খেলছে মেয়ে ভালোবাসার মা  পিঁড়িতে বসা  যে যোনি লোভ তোমায় পশু বানায় মাকে একবার জিজ্ঞেস করো সে পথেই তোমায় আসতে হয় স্তনের মাংস বড়ো প্রিয় আঁচড় কামড় সবখানে তোমার বোনই পেট ভরায় তাতে মমতায় তার সন্তানে চিতায় যে" জ্বল রাহা হ্যায় " আসলে ওটা তোমার বাড়িরই মেয়ে কাল হয়ত কাঁদবে বসে  দেখবে চিতার আগুন বেয়ে তুমি ভাবছ সব তো সাফ নিভলে আগুন সব মাপ কিন্তু শোনো আগুন জ্বলেই সকলের বুকে আগুন যাক জ্বলছে জীবন জ্বলছে মানুষ শুধু তোমারই পাপের অনলে কাঁদাবে তোমায় ঐ চিতার শরীর তোমারই মেয়ের রূপে বদলালে আগুন জ্বালো..... আগুন জ্বালো...

আগুন সাগর

ছবি
 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় ঈশ্বর চলেছেন ক্লান্ত পায়ে লাল মাটিতে জুতোর মশমশ প্রাণের দেবতা সাজা অসহায় দেহাতি মানুষের ডাক্তার দাদা বড়ো অবুঝ ভালো - কাঙ্গাল  মানুষ চাদর চাপা হৃদয় ক্ষতবিক্ষত চাপ চাপ রক্তের আলপণা অপমান বঞ্চনা অসম্মানের পাহাড় ফুলে আজ তার খুব ভয় কখন যে শক্ত পাথরের মালা হয়ে যায় শব্দ সংস্কারক কখনও বা সমাজ সংস্কারক নারী শিক্ষা বা বিধবা বিবাহ চরৈবেতির রঙ্গিন উড়ান তিনি চলেছেন তেজময় শিরদাঁড়ায় যুদ্ধের দুন্দুভি এই উঁচু হতে থাকা মাথাটাকে মাটিতে মেশানোর একরাশ প্রয়াস  না হলে যে সমাজ টলোমলো কিন্ত কীটসমাজ  পারলে কই নাম যে স্বয়ং ঈশ্বর ভুলে গেলে বোধহয় মৃত্যুটা আটপৌড়ে   রোজ  দেখা নয় বুকের ক্ষতের ওপর জমে থাকা হ্যাঁ। চোখেরই জল প্রিয়জনের প্রয়োজন ফুরানোর মোড়কেউপহার ঈশ্বরের আর এক ঈশ্বরকে শিউলি বিদায় অনেক লড়াইয়ের আগুন খেয়ে ভারতমায়ের জীর্ণ টলোমলো স্বপ্নগুলো আজ মহীরুহ আশ্রয়ে কোটি কোটি ঊর্দ্ধ বাহু লড়াইয়ের আগুন বুকে নিয়ে মিছিলের মুখ ঈশ্বর ও যে তোমারই মুখ জাগ্রত জীবন্ত ভারত তো সেখানেই ঠিক সেখানেই তোমার পাশে তোমারই আশে

কবিতা: হৃদয়ে বাস

ছবি
   দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় সততায় হোক বাসা সতত তোমার জীবন জয়ী হোক মিথ্যার হার। নিয়ম শৃঙ্খলা মানায় চলুক জীবন একফালি রোদ হও প্রাণে আমরণ। তুমি পথ চলো শুধু উঁচু করে মাথা জীবনে জীবন যোগ সাফল্যের বারতা। অবিরত পথ চলা শপথ যে গাঁথা শিক্ষকের আদর্শ মাথায় আজি চরণে প্রণত মাথা।

কবিতা অঞ্জলি: পূর্ণতার উড়ান

ছবি
 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় আগুনটা বুকে জ্বেলে পুড়িয়ে পবিত্র চারপাশ লড়াইয়ের সলতেতে বাঁচুক জীবনের অশেষ অভিলাষ। ধ্রুবতারা বুকে পুঁতে ছেলে চলে জীবনের পথ কালো বোর্ডের শব্দরা শেখায়  বাঁচার  মহান শপথ। বীজ আজ মহীরুহ মানুষের শান্তির নীড় উপদেশ তাদেরই ছিল সদা থাক উচ্চ তব শির। পূর্ণতারই শিক্ষায় থাক সাফল্যের অদম্য সফর জীবন বানাও তুমি মানবতার অমলিন আকর। এগিয়ে চলার ছন্দ এখন ছেলেটির বিশ্বাসী পায় সকল শ্রদ্ধা আজ তাই সেই মহামানবেরই দিকে ধায়।