পোস্টগুলি

আগুন সাগর

ছবি
 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় ঈশ্বর চলেছেন ক্লান্ত পায়ে লাল মাটিতে জুতোর মশমশ প্রাণের দেবতা সাজা অসহায় দেহাতি মানুষের ডাক্তার দাদা বড়ো অবুঝ ভালো - কাঙ্গাল  মানুষ চাদর চাপা হৃদয় ক্ষতবিক্ষত চাপ চাপ রক্তের আলপণা অপমান বঞ্চনা অসম্মানের পাহাড় ফুলে আজ তার খুব ভয় কখন যে শক্ত পাথরের মালা হয়ে যায় শব্দ সংস্কারক কখনও বা সমাজ সংস্কারক নারী শিক্ষা বা বিধবা বিবাহ চরৈবেতির রঙ্গিন উড়ান তিনি চলেছেন তেজময় শিরদাঁড়ায় যুদ্ধের দুন্দুভি এই উঁচু হতে থাকা মাথাটাকে মাটিতে মেশানোর একরাশ প্রয়াস  না হলে যে সমাজ টলোমলো কিন্ত কীটসমাজ  পারলে কই নাম যে স্বয়ং ঈশ্বর ভুলে গেলে বোধহয় মৃত্যুটা আটপৌড়ে   রোজ  দেখা নয় বুকের ক্ষতের ওপর জমে থাকা হ্যাঁ। চোখেরই জল প্রিয়জনের প্রয়োজন ফুরানোর মোড়কেউপহার ঈশ্বরের আর এক ঈশ্বরকে শিউলি বিদায় অনেক লড়াইয়ের আগুন খেয়ে ভারতমায়ের জীর্ণ টলোমলো স্বপ্নগুলো আজ মহীরুহ আশ্রয়ে কোটি কোটি ঊর্দ্ধ বাহু লড়াইয়ের আগুন বুকে নিয়ে মিছিলের মুখ ঈশ্বর ও যে তোমারই মুখ জাগ্রত জীবন্ত ভারত তো সেখানেই ঠিক সেখানেই তোমার পাশে তোমারই আশে

কবিতা: হৃদয়ে বাস

ছবি
   দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় সততায় হোক বাসা সতত তোমার জীবন জয়ী হোক মিথ্যার হার। নিয়ম শৃঙ্খলা মানায় চলুক জীবন একফালি রোদ হও প্রাণে আমরণ। তুমি পথ চলো শুধু উঁচু করে মাথা জীবনে জীবন যোগ সাফল্যের বারতা। অবিরত পথ চলা শপথ যে গাঁথা শিক্ষকের আদর্শ মাথায় আজি চরণে প্রণত মাথা।

কবিতা অঞ্জলি: পূর্ণতার উড়ান

ছবি
 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় আগুনটা বুকে জ্বেলে পুড়িয়ে পবিত্র চারপাশ লড়াইয়ের সলতেতে বাঁচুক জীবনের অশেষ অভিলাষ। ধ্রুবতারা বুকে পুঁতে ছেলে চলে জীবনের পথ কালো বোর্ডের শব্দরা শেখায়  বাঁচার  মহান শপথ। বীজ আজ মহীরুহ মানুষের শান্তির নীড় উপদেশ তাদেরই ছিল সদা থাক উচ্চ তব শির। পূর্ণতারই শিক্ষায় থাক সাফল্যের অদম্য সফর জীবন বানাও তুমি মানবতার অমলিন আকর। এগিয়ে চলার ছন্দ এখন ছেলেটির বিশ্বাসী পায় সকল শ্রদ্ধা আজ তাই সেই মহামানবেরই দিকে ধায়।

শতবর্ষের আলোকে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় :এক অফুরান আকর

ছবি
 শ্রদ্ধা ও স্মরণেঃ—দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় আগুনের গোলাটা রাস্তা হেঁটে বেড়ায়-খুঁজে ফেরে দু'মুঠো ভাতের গন্ধ- উলঙ্গ ছেলেটা আকাশে হাত বাড়িয়ে মুঠো মুঠো মেঘ খায়-সকলের রাস্তায় শুয়ে মৃত্যু জীবনকে হাতছানি দেয়--জীবন, ভালো বাসা সব যেন বুকের পাঁজরে ভরতে চায় "ঘর, ফুটপাত,আহার,বাতাস,", বিপ্লবের আগুনপতাকার গগনভেদী স্ফূরণ "এক থালা গরম ভাত হাজার ফুল ফোটায় "..      চুম্বকে এই রূপরেখাই বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। স্বাভাবিকতার ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়া এক আগুনখেকো মুখ, রক্তমসির কবি। জন্ম ১৯২০ সালের ২রা সেপ্টেম্বর অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার বিক্রম পুরে। স্কুল ও কলেজ জীবন কলকাতার আকাশে পল্লবিত।রিপন স্কুল ও কলেজ চলে শিক্ষা। সঙ্গে চলে বিপ্লবের উদ্বোধন। স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন কালবোশেখী হাওয়া আনতে দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার দৃপ্ত বাসনায়।পরে জীবনে যোগ হয় বামপন্থী রাজনীতি। বাঁচার উৎসমুখ সংগ্রাম অভিসারী হয়ে ওঠে।রাতের খসে পড়া তারায় জীবনের অভিলাষ খোঁজা নয়, প্রেমিকার কোমল চাহনীতে রজনীগন্ধা আঁকা নয়--মানুষকে " মায়ের আঁচলের মতো" এক পৃথিবী দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যেখানে  ...

অণুগল্প: আশাবাদ

ছবি
  দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় স্কুল থেকে বেরতে অনেকটাই দেরি হয়ে গেল। ক্লান্ত শরীরটাকে একপ্রকার অটোর মধ্যে ছুঁড়ে দিল অভীক। পিছনের সিটে দুই পৃথুলার পাশে যেন পিসার হেলানো মিনারের মতো বাইরের দিকে ঝুলে রইল। বাইরের বাতাস গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল অটো চলতেই। আরামে চোখ বুজে এল। হঠাৎ প্রশ্ন : অভীবাবু,আজ বর্ধমান লোকালটা হবে তো? দ্বিতীয় বারের প্রশ্নে অভীক উৎসের দিকে তাকাল। কোণে বসে অজন্তাদি। পাশের মেয়েদের স্কুলের ভূগোলের শিক্ষি কা। বাড়ি বেহালা। অবসরের মুখে ই বলা যায়। একসাথে যাতায়াতের কারণে সখ্যতা।অভীককে খুব স্নেহ করেন ।মাথায় সাদা কালো চুলের সহাবস্থান মহামেডানের জার্সির কথা মনে করিয়ে দেয়। সারা মুখে লড়াইয়ের ছাপ। একমাত্র ছেলে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। ঠাকুর পুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়মিত যেতে হয়। ওনার স্বামী পুরুলিয়ায় রঘুনাথপুরের এর বি ডি ও। ঘাড় নেড়ে মুচকি হেসে মুখ ফেরালো ও। কিছুক্ষণ পর আবার প্রশ্ন। অভীক বুঝলো খুব টেনশনে আছেন দিদি। ওনার দিকে মুখ ঘোরাতেই বলে উঠলেন: আজ ছেলেটাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া আছে। ট্রেনটা ধরা আজ খুব দরকার।অভীক বুঝল।এই ট্রেন না পেলে আধঘন্টা কোন ট্রেন নেই। ...

কবিতা: নাছোড় বৃষ্টি

ছবি
  দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় বারান্দায় চেয়ারে বসতেই যুগলবন্দি চোখে বৃষ্টির নাছোড় আদর কাকটার গায় একটু এদিক ওদিক অবশেষে নিরুপায় শেষে হার মেনে স্থির অ চঞ্চল বুঝে যায় মেনে নিতে হয় এটাই জীবন কানের পাশে আদুরে বৃষ্টি বলে চলে পারলে এড়াতে মানিয়ে নাও এখন ঝেড়ে ফেলো নাহয় পরে

অণুগল্প: জীবন কাঁপে বিষুবরেখায়

ছবি
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়  ডাউন পাশকুড়া লোকালের খবরটা শুনেই ছোটা শুরু। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই হৃৎপিণ্ড যেন বিস্ময়ে হাতে ! সঞ্চিতা না? কিন্তু ও এখন কোথা থেকে আসবে? নির্নিমেষ চেয়ে থাকা । সেই চোখ, সেই মুখ, সেই রাতকালো চুল! মন মানে না----সে তো দীর্ঘকাল আগেই হাড়িয়ে গেছে আমাদের থেকে।সে তো...... সময়টা তখন স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ । অর্থনীতি নিয়ে স্নাতকে পড়ি রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যা মন্দিরে। ম্যাক্রো ইকোনমিকসের বেশ কিছু বিষয় খুব জটিল লাগছিল বলে টিউশন নিলাম ড: নিলাদ্র ী সেনগুপ্ত স্যারের কাছে।প্রথম দিনই বন্ধুত্ব হয় সঞ্চিতার সাথে। প্রেসিডেন্সির মেয়ে। থাকে বেলেঘাটায়। পড়ার পর হেদুয়ায় আড্ডা চলত আমাদের। ওর সরলতায় আমরা আশ্চর্য হতাম খুব। কোন দেমাক নেই।ওর দেশের বাড়ি ছিল বোলপুরে। শান্তিনিকেতনের গল্প যখন ও বলতো, মন্ত্রমুগ্ধ আমরা। মাটির সোঁদা গন্ধ যেন ওর কথায়, সরলতায় মোড়া যেন ওর আচরণ।সেই প্রান্তিকের গল্প। সেই খোয়াই----সেই পৌষ মেলা---সেই দোল ! মনটা কয়েক মুহূর্ত যেন আটকে ছিল ফেলা আসা অতীতে। সম্বিৎ ফিরল পঙ্কজের ডাকে।মেয়েটার দিকে আবার তাকালাম। সারা মুখে যেন নিকষ কালো মেঘ! জীবন থেকে হারিয়ে যেতে থাকা...